শুরুর কথা
লেখকের কথা
প্রায় ২ মিনিটের পড়া
আসসালামু আলাইকুম।
মানুষের বুকের ভেতর একটা চাপা ভয় থাকে, যার নাম সে জানে না। রাতের ঘুম ভেঙে যায় অকারণে, বুকটা কেমন যেন হু হু করে, শরীরে ব্যথা বাসা বাঁধে, যার উৎস খুঁজে পাওয়া যায় না। তখন মনে প্রশ্ন জাগে: আমার সঙ্গে কি অস্বাভাবিক কিছু হচ্ছে? আর সেই প্রশ্ন থেকেই শুরু হয় ভয়। কেউ বলে জিনের সমস্যা, কেউ বলে জাদু, কেউবা বদনজর। তখন মানুষ ছুটে যায় এদিক ওদিক, কখনো কবিরাজের দরজায়, কখনো ভয়ে গুটিয়ে যায় ঘরের কোণে। অথচ উত্তরটা ছিল অনেক কাছেই, শুধু বোঝার আলো একটু কম ছিল।
নুরুল কালাম একাডেমিতে পড়াতে গিয়ে, মানুষের চোখের ভাষা পড়তে গিয়ে আমি এই আঁধারটা বহুবার দেখেছি। কেউ জিনের ভয়ে কাঁপছেন, কেউ ওয়াসওয়াসাকে ভাবছেন জিনের আছর, কেউ সন্তানের অসুস্থতায় দিশেহারা হয়ে ছুটে গেছেন ভুল জায়গায়, আবার কেউ সেই ভয়ের সুযোগে হারিয়েছেন কষ্টের টাকা, তাবিজ আর মিথ্যে প্রতিশ্রুতির ফাঁদে পড়ে। এই বইটা লেখার ইচ্ছেটা জন্ম নিয়েছে ঠিক সেই আঁধারের ভেতর থেকেই, একটু আলো জ্বালাবার আশায়।
এখানে আমি ভয় দেখাতে বসিনি, বুঝিয়ে বলতে বসেছি। প্রতিটি সমস্যার নাম জিন নয়, প্রতিটি অসুস্থতার নাম জাদু নয়, আবার জিন, সিহর বা বদনজরের বিষয়গুলোকে ইসলাম অস্বীকারও করে না। তাই আগে বুঝতে হবে, তারপর যাচাই করতে হবে, এরপর সঠিক করণীয় ঠিক করতে হবে। কোন কথা কুরআনের, কোনটা সহিহ হাদিসের, কোনটা আলেমদের ব্যাখ্যা, কোনটা অভিজ্ঞতাভিত্তিক আর কোনটা শুধু প্রচলিত কথা। এই স্তরভেদটা বোঝা জরুরি। এসব কথা ধাপে ধাপে, সহজ ভাষায় বলার চেষ্টা করেছি। রুকইয়াহ কোনো রহস্যময় বিদ্যা নয়, গোপন মন্ত্রও নয়। এটা কুরআনের আয়াত, আল্লাহর নাম-গুণাবলি ও প্রমাণিত দোয়ার মাধ্যমে আল্লাহর কাছে শিফা ও হেফাজত চাওয়া, আর শিফা আসে একমাত্র তাঁর কাছ থেকেই।
একই সঙ্গে একটা কথা পরিষ্কার হওয়া দরকার। রুকইয়াহ আর চিকিৎসা পরস্পরের বিরুদ্ধে নয়। একজন মুসলিম কুরআন পড়বেন, দোয়া করবেন, নিজের জন্য রুকইয়াহ করবেন, আবার প্রয়োজনে ডাক্তার বা মানসিক-স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞের সাহায্যও নেবেন। কারণ একই লক্ষণের পেছনে একাধিক কারণ থাকতে পারে। কখন নিজেই রুকইয়াহ করা যায় আর কখন একজন ডাক্তারের কাছে যাওয়াটাই আসল হেফাজত, সেটাও স্পষ্ট করে বলেছি। প্রয়োজনে চিকিৎসকের কাছে যাওয়াও দায়িত্বশীলতার অংশ।
এই বই আপনাকে প্রথমেই কারও ওপর নির্ভরশীল করতে চায় না, বরং আপনি যেন নিজে বুঝতে পারেন, নিজে শিখতে পারেন এবং নিজের জন্য নিরাপদভাবে রুকইয়াহ করতে পারেন, সেই সক্ষমতা তৈরি করাই এর একটা বড় উদ্দেশ্য। তাবিজ, কবচ, গায়েব জানার দাবি কিংবা রুকইয়াহর নামে প্রতারণা থেকে কীভাবে নিজেকে নিরাপদ রাখবেন, সেটাও এখানে পাবেন। কোথাও প্রমাণ দুর্বল হলে লুকাইনি, কোথাও নিশ্চয়তার নামে মিথ্যে আশ্বাসও দিইনি। কারণ দ্বীনের নামে বাড়িয়ে বলা এক ধরনের আমানতের খেয়ানত।
আপনি যদি নিজে কষ্টে থাকেন, কিংবা প্রিয়জনের জন্য পথ খুঁজছেন, এই বই আপনার হাত ধরবে ইনশাআল্লাহ। তাড়াহুড়ো করে সিদ্ধান্ত নেবেন না, প্রমাণ ছাড়া কাউকে দায়ী করবেন না, ভয় পেয়ে ভুল দরজায় গিয়ে দাঁড়াবেন না। ভয় নয়, আগে বুঝুন, এই একটা কথাই এই বইয়ের প্রাণ। বুঝলে ভয় গলে যায়, আর আল্লাহর উপর ভরসাটা গাঢ় হয়। কারণ তিনিই আশ্রয়, তিনিই রক্ষক, তিনিই শিফা দানকারী।
দোয়া করি, এই বই যেন কারো অন্ধকার সময়ে সঙ্গী হয়, সঠিক পথ বুঝতে সাহায্য করে, আর আমার জন্য হয় সদকায়ে জারিয়া।
আলমগীর হোসাইন বারাকাতী
পর্যালোচনা করেছেন: Emad Uddin, ১৮ অক্টোবর, ২০২৬
নিজের অবস্থা নিয়ে কথা বলতে চান?
রুকইয়াহ সাপোর্ট পাতায় পরামর্শের সময় বেছে নিতে পারেন।