শুরুর কথা
ভূমিকা
প্রায় ২ মিনিটের পড়া
ভয় নয়, আগে বুঝুন
কিছু সমস্যা মানুষকে শুধু কষ্ট দেয় না, ভয়ও জাগায়।
রাতে ঘুম ভেঙে যায়। বুকের ভেতর অজানা চাপ লাগে। শরীরের কোথাও ব্যথা থাকে, কিন্তু কারণ ধরা পড়ে না। একই চিন্তা বারবার ফিরে আসে। কখনো পরিবারে অশান্তি বাড়ে, কখনো সন্তানকে নিয়ে দুশ্চিন্তা তৈরি হয়। তখন মনে প্রশ্ন আসে, “আমার সঙ্গে কি অস্বাভাবিক কিছু হচ্ছে?”
রুকইয়াহ নিয়ে আমাদের সমাজে দুই ধরনের প্রবণতা দেখা যায়। একদিকে অতিরিক্ত ভয় ও অতিরঞ্জন। অন্যদিকে সবকিছুকে অস্বীকার করা। এই বই চেষ্টা করবে এই দুই অবস্থার মাঝখানে একটি সহজ, নিরাপদ ও ভারসাম্যপূর্ণ পথ দেখাতে।
রুকইয়াহ কোনো রহস্যময় বিদ্যা নয়। কোনো গোপন মন্ত্রও নয়। শরিয়তসম্মত রুকইয়াহ হলো কুরআনের আয়াত, আল্লাহর নাম ও গুণাবলি এবং প্রমাণিত দোয়ার মাধ্যমে আল্লাহর কাছে শিফা, সাহায্য ও হেফাজত চাওয়া।
আর শিফা একমাত্র আল্লাহর কাছ থেকেই আসে।
একই সঙ্গে একটি বিষয় পরিষ্কার হওয়া জরুরি। রুকইয়াহ আর চিকিৎসা পরস্পরের বিরুদ্ধে নয়। একজন মুসলিম কুরআন পড়বেন, দোয়া করবেন, নিজের জন্য রুকইয়াহ করবেন। প্রয়োজন হলে চিকিৎসক বা মানসিক-স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞের সাহায্যও নেবেন।
কারণ একই লক্ষণের পেছনে একাধিক কারণ থাকতে পারে।
কাঁপুনি হলেই কি জিন আছে?
বারবার হাই তুললে কি বদনজর?
দুঃস্বপ্ন দেখলেই কি জাদু?
বুক ধড়ফড়, ভয় বা মাথাব্যথা কি সবসময় অদৃশ্য কোনো সমস্যার প্রমাণ?
এই বই এসব অভিজ্ঞতাকে অস্বীকার করবে না। আবার এগুলোকে এককভাবে রোগ নির্ণয়ের প্রমাণও বানাবে না।
আরেকটি বিষয় খুব গুরুত্বপূর্ণ। সব কথা একই স্তরের নয়। কিছু বিষয় সরাসরি কুরআনে আছে, কিছু সহিহ হাদিসে, কিছু আলেমদের ব্যাখ্যা, কিছু অভিজ্ঞতাভিত্তিক। আবার কিছু কথা শুধু মানুষের মুখে মুখে ছড়িয়েছে।
এই বইয়ে চেষ্টা থাকবে, এগুলো যেন একসঙ্গে গুলিয়ে না যায়।
আপনি জানতে পারবেন রুকইয়াহ কী, নিজের জন্য কীভাবে রুকইয়াহ করবেন, কোন আয়াত ও দোয়া পড়বেন, কোন আমল প্রমাণিত, কোথায় সতর্ক থাকতে হবে এবং কখন অন্য কারও সাহায্য প্রয়োজন হতে পারে।
তাবিজ, কবচ, অজানা মন্ত্র, গায়েব জানার দাবি, ভয় দেখিয়ে টাকা নেওয়া বা রুকইয়াহর নামে প্রতারণা থেকেও কীভাবে নিজেকে নিরাপদ রাখবেন, সেটাও আলোচনা করা হবে।
এই বই আপনাকে প্রথমেই কারও ওপর নির্ভরশীল করতে চায় না। বরং আপনি যেন নিজে বুঝতে পারেন, নিজে শিখতে পারেন এবং নিজের জন্য নিরাপদভাবে রুকইয়াহ করতে পারেন, সেই সক্ষমতা তৈরি করাই এর অন্যতম উদ্দেশ্য।
আপনার নিজের প্রশ্ন থাকলে প্রথমে পরের দ্রুত নির্দেশিকা দেখুন। প্রয়োজন অনুযায়ী নির্দিষ্ট অধ্যায়ে যান; বইটি শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত পড়ার পাশাপাশি প্রয়োজনে বিষয় ধরে খুঁজেও পড়তে পারেন।
পর্যালোচনা করেছেন: Emad Uddin, ১৮ অক্টোবর, ২০২৬
নিজের অবস্থা নিয়ে কথা বলতে চান?
রুকইয়াহ সাপোর্ট পাতায় পরামর্শের সময় বেছে নিতে পারেন।