মূল বিষয়বস্তুতে যান

নুরুল কালাম একাডেমিতে আপনাকে স্বাগতম

০১৫৭৭৩০১১৬১

প্রথম ভাগ · ভিত্তি ও বোঝাপড়া

অধ্যায় ৩

শরিয়তসম্মত রুকইয়াহর মৌলিক নীতি

শিরকমুক্ত পদ্ধতি, পরিষ্কার বিশ্বাস, প্রামাণিক পাঠ এবং শিফা একমাত্র আল্লাহর পক্ষ থেকে আসে এই ভিত্তি।

১২টি প্রশ্নপ্রায় ৮ মিনিটের পড়া

بِسْمِ اللهِ الرَّحْمٰنِ الرَّحِيمِ

রুকইয়াহ বৈধ। কিন্তু রুকইয়াহর নামে প্রচলিত সবকিছু বৈধ নয়।

কেউ কুরআন পড়ছেন, তাই তাঁর সব পদ্ধতি সঠিক, এমন নয়। কেউ আরবি শব্দ বলছেন, তাই সেটি শরিয়তসম্মত, এমনও নয়। আবার কোনো পদ্ধতিতে কারও উপকার হয়েছে বলেই সেটিকে সুন্নাহ বলা যাবে না।

এই জায়গাটিই সবচেয়ে বেশি সতর্কতার দাবি রাখে। কারণ রুকইয়াহর সঙ্গে মানুষের ঈমান, ভয়, আশা এবং অসুস্থতার সময়ের দুর্বলতা জড়িয়ে থাকে। তাই এখানে ভালো নিয়ত যথেষ্ট নয়। পদ্ধতিটিও সঠিক হতে হবে।

রাসুলুল্লাহ ﷺ বলেছেন:

“তোমাদের রুকইয়াহগুলো আমাকে দেখাও। রুকইয়াহতে কোনো অসুবিধা নেই, যতক্ষণ তাতে শিরক না থাকে।”

সূত্র: সহিহ মুসলিম, হাদিস ২২০০।

এই হাদিস আমাদের একটি বড় নীতি দেয়। রুকইয়াহর দরজা খোলা, কিন্তু সীমাহীন নয়। শিরক, অস্পষ্ট বিশ্বাস, অজানা আহ্বান বা শরিয়তের বিরোধী কিছু ঢুকে গেলে সেটি আর শরিয়তসম্মত রুকইয়াহ থাকে না।

১. আলেমরা যে তিনটি মৌলিক শর্ত উল্লেখ করেছেন

হাফিজ ইবন হাজর আল-আসকালানি (রহ.) আলেমদের বক্তব্য উল্লেখ করে রুকইয়াহ বৈধ হওয়ার জন্য তিনটি মৌলিক শর্ত লিখেছেন:

১. তা আল্লাহর কালাম, তাঁর নাম ও গুণাবলির মাধ্যমে হবে।

২. আরবি ভাষায় হবে, অথবা অন্য ভাষা হলে তার অর্থ জানা ও বোধগম্য হবে।

৩. বিশ্বাস থাকবে যে রুকইয়াহ নিজে স্বাধীনভাবে কোনো প্রভাব সৃষ্টি করে না; শিফা ও উপকার আল্লাহর ইচ্ছাতেই হয়।

সূত্র: ফাতহুল বারি, ইবন হাজর আল-আসকালানি, ১০/১৯৫।

এই তিনটি শর্তকে সামনে রাখলে রুকইয়াহর নামে প্রচলিত অনেক বিভ্রান্তি সহজেই বোঝা যায়।

২. প্রথম নীতি: কী পড়ছি, সেটি নিরাপদ ও বৈধ হতে হবে

একজন সাধারণ মানুষের জন্য সবচেয়ে নিরাপদ পথ হলো কুরআনের আয়াত, আল্লাহর নাম ও গুণাবলি এবং সহিহ হাদিসে প্রমাণিত দোয়াগুলো শেখা ও পড়া।

এখানে একটি বিষয় পরিষ্কার রাখা দরকার। শরিয়তসম্মত রুকইয়াহ শুধু কয়েকটি মুখস্থ তালিকার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। সহিহ মুসলিমে জাবির ইবন আবদুল্লাহ (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ ﷺ বলেছেন:

“তোমাদের মধ্যে যে তার ভাইয়ের উপকার করতে পারে, সে যেন তা করে।”

সূত্র: সহিহ মুসলিম, হাদিস ২১৯৯।

এই হাদিসের আলোকে আলেমরা এমন বৈধ দোয়া ও বাক্যের অনুমতি দিয়েছেন, যার অর্থ পরিষ্কার, যাতে শিরক নেই এবং যা শরিয়তের কোনো নীতির বিরোধী নয়।

তবে এখানে আমাদের বইয়ের নীতি খুব স্পষ্ট থাকবে:

যা কুরআনে আছে, আমরা বলব কুরআনে আছে।

যা সহিহ হাদিসে আছে, আমরা বলব সহিহ হাদিসে আছে।

যা আলেমদের ব্যাখ্যা, আমরা বলব এটি আলেমদের ব্যাখ্যা।

যা শুধু বৈধ সাধারণ দোয়া, তাকে নববী দোয়া বলব না।

দ্বীনের নামে বাড়িয়ে বলা কখনোই নিরাপদ পথ নয়।

৩. দ্বিতীয় নীতি: অজানা শব্দ বা মন্ত্র থেকে দূরে থাকুন

কেউ একটি কাগজে কিছু লিখে দিলেন। আপনি পড়তে পারছেন না। অর্থও জানেন না। বলা হলো, “এটা পড়লে সমস্যা চলে যাবে।”

অথবা কেউ এমন কিছু শব্দ পড়ছেন, যার ভাষা বোঝা যাচ্ছে না। জিজ্ঞেস করলে বলছেন, “এটা গোপন আমল, অর্থ জানা দরকার নেই।”

এখানে থামতে হবে।

অর্থহীন বা অর্থ অজানা কোনো বাক্যকে রুকইয়াহ হিসেবে গ্রহণ করা নিরাপদ নয়। কারণ সেই শব্দের মধ্যে কাকে ডাকা হচ্ছে, কী বিশ্বাস প্রকাশ করা হচ্ছে বা কোনো শিরকি বিষয় আছে কি না, আপনি জানেন না।

ইবন হাজর (রহ.)-এর আলোচনাতেও অর্থ না-বোঝা বাক্য সম্পর্কে সতর্কতার কারণ হিসেবে শিরকের আশঙ্কার কথা এসেছে।

তাই সাধারণ নীতি হবে:

  • কুরআনের আয়াত পড়ুন।
  • প্রমাণিত দোয়া পড়ুন।
  • অন্য কোনো দোয়া হলে অর্থ পরিষ্কার রাখুন।
  • অজানা মন্ত্র, সাংকেতিক শব্দ বা রহস্যময় বাক্য এড়িয়ে চলুন।

কুরআনের আরবি তিলাওয়াতের বিষয়টি আলাদা। কুরআন তার নিজস্ব আরবিতেই পাঠ করা হয়। এখানে “অর্থ জানা” বলতে কুরআনের বৈধতা বোঝানো হচ্ছে না; মূল সতর্কতা হলো মানুষের বানানো বা অজানা বাক্য সম্পর্কে।

৪. তৃতীয় নীতি: শিফা আল্লাহর, পদ্ধতির নয়

রুকইয়াহর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আকিদাগত নীতি হলো, কোনো আয়াত, দোয়া, রাকি, পানি, তেল বা অন্য কোনো মাধ্যমের নিজস্ব স্বাধীন ক্ষমতা নেই।

এগুলো কারণ বা উপায় হতে পারে। শিফা দেন আল্লাহ।

এই বিশ্বাস শুধু মুখে বললেই যথেষ্ট নয়। আচরণেও তার প্রভাব থাকতে হবে।

যদি কেউ মনে করেন, “এই লোক না পড়লে আমি ভালো হব না”, “এই বিশেষ বোতলের পানি ছাড়া আমার উপায় নেই”, “এই নির্দিষ্ট সংখ্যাই আমাকে রক্ষা করবে”, তাহলে ধীরে ধীরে মাধ্যমের ওপর এমন নির্ভরতা তৈরি হতে পারে যা তাওয়াক্কুলের ভারসাম্য নষ্ট করে।

সঠিক অবস্থান হলো:

আমি বৈধ উপায় গ্রহণ করব।

আমি কুরআন পড়ব।

আমি দোয়া করব।

প্রয়োজনে চিকিৎসাও নেব।

কিন্তু আমার অন্তর নির্ভর করবে আল্লাহর ওপর।

৫. শিরকমুক্ত হওয়া মানে শুধু মূর্তিপূজা না থাকা নয়

অনেকে “শিরক নেই” কথাটিকে খুব সংকীর্ণভাবে বোঝেন। মনে করেন, মূর্তি বা প্রতিমার নাম না থাকলেই সব ঠিক।

কিন্তু রুকইয়াহর ক্ষেত্রে আরও সতর্ক হতে হয়।

আল্লাহ ছাড়া অন্য কারও কাছে এমন সাহায্য চাওয়া, যা একমাত্র আল্লাহর ক্ষমতার বিষয়; জিনের কাছে সাহায্য চাওয়া বা তাকে সাহায্যের জন্য আহ্বান করা; অদৃশ্য সত্তাকে সন্তুষ্ট করার উদ্দেশ্যে কোনো নিবেদন করা; অথবা গায়েব জানার দাবি করা, এসব শরিয়তসম্মত রুকইয়াহর অংশ হতে পারে না।

এই অধ্যায়ে আমরা বিস্তারিত ফিকহি আলোচনা করছি না। শুধু একটি সীমারেখা পরিষ্কার করছি:

রুকইয়াহ মানুষকে আল্লাহর দিকে নেবে, অদৃশ্য কোনো সত্তার সঙ্গে সম্পর্ক তৈরির দিকে নয়।

৬. বৈধ হলেই সুন্নাহ নয়

এটি খুব গুরুত্বপূর্ণ একটি পার্থক্য।

কোনো কাজ শরিয়তে নিষিদ্ধ নয়, তাই সেটি বৈধ হতে পারে। কিন্তু তাই বলে সেটি “রাসুলুল্লাহ ﷺ-এর সুন্নাহ” হয়ে যায় না।

উদাহরণ হিসেবে, কেউ কোনো বৈধ সহায়ক পদ্ধতি ব্যবহার করলেন এবং ব্যক্তিগতভাবে উপকার পেলেন। সেই অভিজ্ঞতা তিনি বলতে পারেন। কিন্তু তিনি বলতে পারবেন না, “এটাই সুন্নাহ”, যদি তার পক্ষে নির্দিষ্ট দলিল না থাকে।

একইভাবে কোনো আয়াত সাতবার, এগারোবার বা নির্দিষ্ট সময় পড়তে কেউ ব্যক্তিগতভাবে অভ্যস্ত হতে পারেন। কিন্তু সেই সংখ্যা বা সময়কে “সুন্নাহ নির্ধারিত” বা “অবশ্যই এভাবেই করতে হবে” বলা যাবে না, যতক্ষণ নির্দিষ্ট প্রমাণ না থাকে।

যেখানে শরিয়ত নির্দিষ্ট সংখ্যা দিয়েছে, সেখানে সেটি মানা হবে। যেখানে দেয়নি, সেখানে নিজের পছন্দকে শরিয়তের নির্ধারিত নিয়ম বানানো যাবে না।

এই পার্থক্য পুরো আলোচনাজুড়ে বজায় রাখা দরকার।

৭. প্রমাণিত, বৈধ ও অভিজ্ঞতাভিত্তিক, তিনটি এক জিনিস নয়

পাঠকের সুবিধার জন্য আমরা তিনটি স্তর আলাদা করে বুঝব।

প্রথম স্তর: প্রমাণিত আমল

যে আয়াত, দোয়া বা পদ্ধতির পক্ষে কুরআন বা সহিহ সুন্নাহর স্পষ্ট প্রমাণ আছে।

দ্বিতীয় স্তর: বৈধ সাধারণ প্রয়োগ

যে দোয়া বা পদ্ধতি শরিয়তের বিরোধী নয়, অর্থ পরিষ্কার, শিরকমুক্ত, কিন্তু সেটিকে নির্দিষ্ট নববী আমল বলা যায় না।

তৃতীয় স্তর: অভিজ্ঞতাভিত্তিক সহায়ক পদ্ধতি

কেউ অভিজ্ঞতায় কোনো হালাল উপায় থেকে উপকার পেতে পারেন। এমন বিষয় আলাদা করে যাচাই করতে হবে। উপকারের অভিজ্ঞতা থাকলেই সেটি সুন্নাহ হয়ে যায় না, আর একটি অভিজ্ঞতা সবার জন্য নিশ্চিত ফলের প্রতিশ্রুতিও নয়।

এই তিন স্তর গুলিয়ে গেলে বিভ্রান্তি তৈরি হয়।

৮. ফল পাওয়া মানেই পদ্ধতি সঠিক নয়

এটি মানুষের খুব স্বাভাবিক একটি ভুল।

কেউ বললেন, “আমি এটা করেছি, তারপর ভালো হয়ে গেছি। তাই এটা অবশ্যই সঠিক।”

কিন্তু শুধু ফল দিয়ে হালাল-হারাম বা সুন্নাহ-বেদআত নির্ধারণ করা যায় না। ভুল পদ্ধতির পরেও কোনো মানুষ সাময়িক স্বস্তি পেতে পারেন। আবার একেবারে সঠিক পদ্ধতি অনুসরণ করেও কারও সুস্থ হতে সময় লাগতে পারে।

তাই প্রশ্ন শুধু “কাজ করেছে কি না” নয়।

আরও বড় প্রশ্ন হলো:

পদ্ধতিটি শরিয়তসম্মত কি না?

এর মধ্যে কোনো শিরকি বা হারাম বিষয় আছে কি না?

যে দাবি করা হচ্ছে, তার প্রমাণ আছে কি না?

৯. রুকইয়াহর নামে ভয় দেখানো যাবে না

একজন মানুষ অসুস্থ বা আতঙ্কিত অবস্থায় থাকলে তিনি সহজেই প্রভাবিত হন। তাই রুকইয়াহর নামে ভয় দেখানো অত্যন্ত দায়িত্বহীন আচরণ।

“আপনার অবস্থা খুব ভয়ংকর।”

“এখনই এই কাজ না করলে বড় ক্ষতি হবে।”

“আপনার মধ্যে অনেক জিন আছে।”

“এত টাকা দিয়ে চিকিৎসা না নিলে বাঁচবেন না।”

এ ধরনের কথা প্রমাণ ছাড়া বলা যাবে না।

শরিয়তসম্মত রুকইয়াহ মানুষের ভয়কে ব্যবসায় পরিণত করে না। বরং তাকে আল্লাহর ওপর ভরসা, সঠিক আমল এবং প্রয়োজনীয় বাস্তব সাহায্যের দিকে নিয়ে যায়।

১০. রুকইয়াহর নামে রোগ নির্ণয়ের সীমা বুঝুন

একজন রাকি যদি চিকিৎসক না হন, তাহলে তাঁর পক্ষে চিকিৎসাবিজ্ঞানের রোগ নির্ণয় করা ঠিক নয়। একইভাবে কয়েকটি সাধারণ লক্ষণ দেখে নিশ্চিতভাবে “জিন”, “জাদু” বা “বদনজর” ঘোষণা করাও নিরাপদ নয়।

রুকইয়াহ করা এক বিষয়। নিশ্চিত রোগ নির্ণয় আরেক বিষয়।

এই পার্থক্য মানলে মানুষ অনেক ভুল চিকিৎসা, অযথা ভয় এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা বিলম্বিত করা থেকে বাঁচতে পারে।

১১. নিজের ভাষায় দোয়া করা যাবে কি?

রুকইয়াহর সবচেয়ে নিরাপদ ও উত্তম ভিত্তি হলো কুরআন এবং প্রমাণিত নববী দোয়া।

তবে আলেমদের উল্লেখিত শর্ত অনুযায়ী, অন্য ভাষায় এমন সাধারণ দোয়া করা যেতে পারে যার অর্থ পরিষ্কার, বিশ্বাস সঠিক এবং যার মধ্যে শিরক বা হারাম কিছু নেই।

অর্থাৎ একজন বাংলা ভাষাভাষী মানুষ আল্লাহর কাছে বাংলায় বলতে পারেন:

“হে আল্লাহ, আমার কষ্ট দূর করুন, আমাকে শিফা দিন, আমাকে হেফাজত করুন।”

এটি একটি সাধারণ দোয়া। একে হাদিসে বর্ণিত নির্দিষ্ট দোয়া বলা যাবে না।

আর একটি বিষয় পরিষ্কার রাখা জরুরি। কুরআনের তিলাওয়াত কুরআনের আরবি শব্দেই হবে। বাংলা বা অন্য ভাষার অনুবাদ কুরআনের অর্থের অনুবাদ, কুরআনের মূল তিলাওয়াত নয়। অনুবাদ পড়া ও অর্থ বোঝা অবশ্যই উপকারী, কিন্তু রুকইয়াহতে কুরআন তিলাওয়াত বলতে আরবি কুরআন পাঠকেই বোঝানো হবে।

১২. শুরুতেই কয়েকটি ভুল ধারণা পরিষ্কার করি

এই অধ্যায়ের শেষে রুকইয়াহর মৌলিক নীতির সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত কয়েকটি ভুল ধারণা সংক্ষেপে পরিষ্কার করা যাক। আগের অধ্যায়ে যেগুলো আলোচনা হয়েছে, সেগুলো এখানে অযথা পুনরাবৃত্তি করছি না।

১. “যে পদ্ধতিতে উপকার হয়েছে, সেটাই সুন্নাহ।”

সঠিক নয়। উপকারের অভিজ্ঞতা ও সুন্নাহর প্রমাণ এক বিষয় নয়।

২. “নির্দিষ্ট সংখ্যা বেশি হলে আমল বেশি শক্তিশালী।”

এমন সাধারণ নিয়মের প্রমাণ নেই। নির্দিষ্ট সংখ্যা সুন্নাহতে থাকলে সেটিই অনুসরণ করা হবে।

৩. “অজানা মন্ত্র হলেও ফল দিলে ব্যবহার করা যায়।”

সঠিক নয়। অর্থ অজানা ও সন্দেহজনক বাক্য থেকে দূরে থাকতে হবে।

৪. “আরবি হলেই সব মন্ত্র বৈধ।”

সঠিক নয়। আরবি ভাষায়ও শিরকি, নিষিদ্ধ বা ভুল কথা থাকতে পারে।

৫. “রুকইয়াহর সময় জিন কথা বললে তার সব কথা সত্য।”

এমন কোনো নিশ্চয়তা নেই। অদৃশ্য বিষয়ে দাবি যাচাই ছাড়া গ্রহণ করা যাবে না।

৬. “রাকি বলে দিলে কে জাদু করেছে, সেটাই প্রমাণ।”

সঠিক নয়। প্রমাণ ছাড়া কাউকে দায়ী করা যাবে না।

৭. “ব্যয়বহুল রুকইয়াহ বেশি কার্যকর।”

এর কোনো শরঈ ভিত্তি নেই। মূল্য বেশি হলেই পদ্ধতি বেশি সঠিক বা কার্যকর হয় না।

৮. “এক বা দুইবার রুকইয়াহ করলেই নিশ্চিত শিফার গ্যারান্টি দেওয়া যায়।”

সঠিক নয়। শিফা আল্লাহর হাতে। কেউ নিশ্চিত সময়সীমা বা ফলের গ্যারান্টি দিতে পারে না।

৯. “নিজের ভাষায় আল্লাহর কাছে শিফা চাওয়া যাবে না।”

সঠিক নয়। অর্থবোধক ও শিরকমুক্ত সাধারণ দোয়া নিজের ভাষায় করা যায়। তবে কুরআনের তিলাওয়াত কুরআনের আরবিতেই হবে।

১০. “রুকইয়াহ শুধু কোনো বিশেষ ঘর, কেন্দ্র বা নির্দিষ্ট ব্যক্তির সামনেই করতে হয়।”

সঠিক নয়। নিজের জন্য নিজে কুরআন ও দোয়া পড়ে রুকইয়াহ করা সুন্নাহ দ্বারা প্রমাণিত।

১১. “যে কোনো কুরআনের আয়াতকে নিজের মতো নির্দিষ্ট রোগের নির্দিষ্ট প্রেসক্রিপশন বলা যায়।”

সঠিক নয়। কুরআন শিফা, কিন্তু নির্দিষ্ট রোগ, সংখ্যা, সময় বা পদ্ধতি সম্পর্কে নির্দিষ্ট দাবি করলে তার জন্য নির্দিষ্ট প্রমাণ দরকার।

১২. “রুকইয়াহকারী সব ধরনের শারীরিক ও মানসিক রোগ নির্ণয় করতে পারেন।”

সঠিক নয়। প্রত্যেককে নিজের জ্ঞানের সীমা বুঝতে হবে এবং প্রয়োজন হলে সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞের সাহায্য নিতে হবে।

মূল কথা

  • শরিয়তসম্মত রুকইয়াহ শিরকমুক্ত হবে।
  • কী পড়া হচ্ছে, তার প্রকৃতি ও অর্থ নিরাপদ ও পরিষ্কার হতে হবে।
  • রুকইয়াহকে স্বাধীন শক্তি মনে করা যাবে না; শিফা একমাত্র আল্লাহর ইচ্ছায় আসে।
  • বৈধ, প্রমাণিত সুন্নাহ এবং অভিজ্ঞতাভিত্তিক পদ্ধতি এক জিনিস নয়।
  • প্রমাণ ছাড়া কোনো সংখ্যা, সময় বা পদ্ধতিকে সুন্নাহ বলা যাবে না।

রুকইয়াহকে নিরাপদ রাখার সবচেয়ে সহজ উপায় হলো, রহস্য বাড়ানো নয়, বরং দলিল ও তাওহিদের দিকে ফিরে যাওয়া।

এখন কী করবেন?

যে পাঠ বা পদ্ধতি ব্যবহার করতে চান, তার শব্দ ও অর্থ বোঝার চেষ্টা করুন। দলিল, আলেমের ব্যাখ্যা এবং কারও অভিজ্ঞতাকে আলাদা রাখুন। অজানা মন্ত্র এড়িয়ে চলুন।

পরের অধ্যায়ে

এখন আমাদের সামনে পরের প্রশ্নটি খুব গুরুত্বপূর্ণ:

একই লক্ষণের পেছনে যদি একাধিক কারণ থাকতে পারে, তাহলে আমরা কীভাবে বিষয়টি বুঝব?

কখন একটি সমস্যা শারীরিক কারণেও হতে পারে?

কখন মানসিক চাপ বা ঘুমের সমস্যার সঙ্গে মিল থাকতে পারে?

আর কখন রুকইয়াহ করা যেতে পারে, কিন্তু তাড়াহুড়ো করে কোনো অদৃশ্য কারণ নিশ্চিত না করে?

পরের অধ্যায়ে আমরা এই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি আলোচনা করব:

অধ্যায় ৪: একই লক্ষণের একাধিক কারণ কীভাবে বুঝবেন?

একই লক্ষণের একাধিক কারণ কীভাবে বুঝবেন?

পর্যালোচনা করেছেন: Emad, ১৮ অক্টোবর, ২০২৬

নিজের অবস্থা নিয়ে কথা বলতে চান?

রুকইয়াহ সাপোর্ট পাতায় পরামর্শের সময় বেছে নিতে পারেন।

পরামর্শ বুক করুন
বইয়ের সূচিতে ফিরুন