মূল বিষয়বস্তুতে যান

নুরুল কালাম একাডেমিতে আপনাকে স্বাগতম

০১৫৭৭৩০১১৬১

দ্বিতীয় ভাগ · সমস্যা ও উদ্বেগ বুঝুন

অধ্যায় ১১

শারীরিক ব্যথা, দীর্ঘস্থায়ী উপসর্গ ও কারণ-অস্পষ্ট অসুস্থতা

দীর্ঘস্থায়ী শারীরিক কষ্টে চিকিৎসা মূল্যায়ন এবং রুকইয়াহকে পাশাপাশি রাখার নির্দেশনা।

১৫টি প্রশ্নপ্রায় ৮ মিনিটের পড়া

بِسْمِ اللهِ الرَّحْمٰنِ الرَّحِيمِ

শরীরের কোথাও ব্যথা আছে। অনেক দিন ধরে আছে। কখনো কমে, কখনো বাড়ে। পরীক্ষা করেছেন, ওষুধও নিয়েছেন, কিন্তু পুরো কারণ ধরা পড়ছে না। তখন খুব সহজে একটি ভয় এসে যায়: “এটা কি জিন, জাদু বা বদনজর?”

আবার উল্টো ঘটনাও ঘটে। কেউ রুকইয়াহ করছেন বলে চিকিৎসা বন্ধ করে দেন। কেউ বলেন, “ডাক্তার কিছু পায়নি, মানে সমস্যা আধ্যাত্মিক।”

দুই সিদ্ধান্তই তাড়াহুড়োর হতে পারে।

এই অধ্যায়ের মূল নীতি:

ব্যথা সত্য হতে পারে, যদিও কারণ সঙ্গে সঙ্গে ধরা না পড়ে।

রুকইয়াহ করা বৈধ, কিন্তু চিকিৎসা বন্ধ করার কারণ নয়।

আর কোনো দীর্ঘস্থায়ী উপসর্গকে একা জিন, সিহর বা বদনজরের নিশ্চিত প্রমাণ বানানো যাবে না।

১. অসুস্থতা ও শিফা সম্পর্কে ইসলামের দৃষ্টিভঙ্গি

ইবরাহিম (আ.)-এর ভাষায় আল্লাহ তাআলা বলেন:

وَإِذَا مَرِضْتُ فَهُوَ يَشْفِينِ

“আর আমি যখন অসুস্থ হই, তখন তিনিই আমাকে শিফা দেন।”
— সূরা আশ-শু‘আরা, ২৬:৮০।

এখানে দুইটি বিষয় একসঙ্গে আছে। অসুস্থতা বাস্তব, আর শিফা আল্লাহর পক্ষ থেকে।

উসামাহ ইবন শারীক (রা.) থেকে বর্ণিত, কিছু বেদুইন রাসুলুল্লাহ ﷺ-কে জিজ্ঞেস করলেন, “হে আল্লাহর রাসুল, আমরা কি চিকিৎসা গ্রহণ করব?” তিনি বললেন, “চিকিৎসা গ্রহণ করো। আল্লাহ এমন কোনো রোগ রাখেননি যার জন্য চিকিৎসা রাখেননি, শুধু একটি ছাড়া: বার্ধক্য।”

সূত্র: সুনান আবু দাউদ, হাদিস ৩৮৫৫। বর্ণনাটি আল-আলবানি সহিহ বলেছেন।

অর্থাৎ চিকিৎসা গ্রহণ আল্লাহর ওপর তাওয়াক্কুলের বিপরীত নয়। উপায় গ্রহণ করেও শিফা আল্লাহর কাছেই চাওয়া হয়।

২. দীর্ঘস্থায়ী ব্যথা মানেই কি আধ্যাত্মিক সমস্যা?

না।

দীর্ঘদিনের ব্যথার বহু কারণ থাকতে পারে। যেমন:

  • পুরোনো আঘাত
  • পেশি, জয়েন্ট বা স্নায়ুর সমস্যা
  • মাইগ্রেন বা দীর্ঘস্থায়ী মাথাব্যথা
  • হজমের কিছু সমস্যা
  • ঘুমের ঘাটতি
  • দীর্ঘ মানসিক চাপ
  • উদ্বেগ বা বিষণ্নতার সঙ্গে ব্যথার সম্পর্ক
  • অথবা একাধিক শারীরিক, মানসিক ও সামাজিক কারণের সমন্বয়

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার দীর্ঘস্থায়ী ব্যথা বিষয়ক শ্রেণিবিন্যাসেও বলা হয়েছে, কিছু দীর্ঘস্থায়ী ব্যথা একটি স্বতন্ত্র স্বাস্থ্যসমস্যা হিসেবেও থাকতে পারে এবং এতে জৈবিক, মানসিক ও সামাজিক একাধিক বিষয় ভূমিকা রাখতে পারে।

সূত্র: World Health Organization, ICD-11 chronic pain classification; WHO chronic pain guidance।

তাই দীর্ঘদিন ব্যথা থাকলেই “অদৃশ্য সমস্যা” ধরে নেওয়া যাবে না।

৩. “সব টেস্ট নরমাল” মানে কি ব্যথা মিথ্যা?

না।

এটি খুব গুরুত্বপূর্ণ। কোনো পরীক্ষা স্বাভাবিক আসার অর্থ এই নয় যে রোগীর কষ্ট মিথ্যা, বানানো বা কল্পিত।

কিছু সমস্যার নির্ণয় একবারে হয় না। কখনো উপসর্গের ধরণ, সময়কাল, শারীরিক পরীক্ষা, চিকিৎসার প্রতিক্রিয়া এবং পর্যবেক্ষণ মিলিয়ে ধীরে ধীরে চিকিৎসক সিদ্ধান্তে পৌঁছান। আবার কিছু দীর্ঘস্থায়ী ব্যথায় একটি একক কারণ দিয়ে পুরো অভিজ্ঞতা ব্যাখ্যা করা যায় না।

WHO-এর দীর্ঘস্থায়ী প্রাথমিক ব্যথার শ্রেণিবিন্যাসেও এমন ব্যথার স্বীকৃতি আছে, যা অন্য কোনো একক রোগ দিয়ে পুরোপুরি ব্যাখ্যা না হলেও বাস্তব কষ্ট ও দৈনন্দিন অক্ষমতা তৈরি করতে পারে।

তাই এই দুইটি বাক্যই ভুল:

“ডাক্তার কিছু পায়নি, তাই আপনার কিছুই হয়নি।”

এবং

“ডাক্তার কিছু পায়নি, তাই এটা নিশ্চয়ই জিন বা জাদু।”

সঠিক অবস্থান হলো: কষ্টকে গুরুত্ব দিন, কিন্তু কারণ সম্পর্কে প্রমাণ ছাড়া সিদ্ধান্ত দেবেন না।

৪. রুকইয়াহ কি শারীরিক ব্যথার জন্য করা যায়?

হ্যাঁ।

উসমান ইবন আবিল ‘আস (রা.) তাঁর শরীরের ব্যথার কথা রাসুলুল্লাহ ﷺ-কে বলেছিলেন। নবী ﷺ তাঁকে ব্যথার জায়গায় হাত রেখে তিনবার “বিসমিল্লাহ” এবং সাতবার একটি দোয়া পড়তে বলেন:

بِسْمِ اللَّهِ

তিনবার। এরপর সাতবার:

أَعُوذُ بِاللَّهِ وَقُدْرَتِهِ مِنْ شَرِّ مَا أَجِدُ وَأُحَاذِرُ

অর্থ: “আমি যে কষ্ট অনুভব করছি এবং যার আশঙ্কা করছি, তার অনিষ্ট থেকে আল্লাহ ও তাঁর কুদরতের আশ্রয় চাই।”

সূত্র: সহিহ মুসলিম, হাদিস ২২০২।

এটি শারীরিক ব্যথার জন্য সরাসরি প্রমাণিত একটি দোয়া।

কিন্তু এখান থেকে এ কথা বলা যাবে না যে ব্যথার কারণ অবশ্যই জিন, জাদু বা বদনজর। হাদিসে ব্যথার জন্য দোয়া শেখানো হয়েছে, অদৃশ্য কারণ নির্ণয়ের পদ্ধতি নয়।

৫. ব্যথার সময় কুরআন পড়লে আরাম হলে কী বুঝব?

কুরআন পড়ে শান্তি বা আরাম পাওয়া ভালো বিষয়। রুকইয়াহর উদ্দেশ্যই আল্লাহর কাছে শিফা চাওয়া।

কিন্তু আরাম পাওয়া মানে এই নয় যে ব্যথার কারণ অবশ্যই আধ্যাত্মিক ছিল।

মানুষ কুরআন শুনে মানসিকভাবে প্রশান্ত হতে পারেন, ভয় কমতে পারে, শরীর শিথিল হতে পারে। আবার আল্লাহ তাঁর কিতাবের মাধ্যমে শিফা দান করতে পারেন।

তাই আমরা বলব:

“আলহামদুলিল্লাহ, আরাম হয়েছে।”

কিন্তু বলব না:

“আরাম হয়েছে, তাই প্রমাণ হলো এটি জিনের ব্যথা ছিল।”

৬. রুকইয়াহর সময় ব্যথা বাড়লে কি জিন বা জাদু নিশ্চিত?

না।

রুকইয়াহর সময় কারও কোনো জায়গায় ব্যথা বেশি মনে হতে পারে, মাথা ভার লাগতে পারে, কান্না আসতে পারে, শরীর গরম বা ঠান্ডা লাগতে পারে। কিছু রুকইয়াহ বইয়ে এগুলো সম্ভাব্য অভিজ্ঞতা হিসেবে উল্লেখ করা হয়।

কিন্তু এগুলোকে একা রোগনির্ণয়ের মানদণ্ড বানানো ঠিক নয়। শরীরের অবস্থান, মনোযোগ, ভয়, দীর্ঘ সময় বসে থাকা, শ্বাসের পরিবর্তন, আগে থেকেই থাকা ব্যথা বা অন্য কারণেও অনুভূতি বাড়তে পারে।

নীতি সহজ:

প্রতিক্রিয়া নোট করতে পারেন।

প্রতিক্রিয়া দিয়ে নিশ্চিত অদৃশ্য কারণ ঘোষণা করবেন না।

৭. দীর্ঘ অসুস্থতায় ধৈর্য (সবর) মানে চিকিৎসা ছেড়ে দেওয়া নয়

দীর্ঘদিন অসুস্থ থাকা মানসিকভাবে ক্লান্তিকর। কেউ কেউ মনে করেন, সবর মানে শুধু সহ্য করা এবং আর কিছু না করা।

এটি সঠিক নয়।

সবরের সঙ্গে চিকিৎসা নেওয়া, দ্বিতীয় মতামত নেওয়া, পরীক্ষা করা, জীবনযাত্রা ঠিক করা, দোয়া করা এবং রুকইয়াহ করা একসঙ্গে চলতে পারে।

আবু সাঈদ আল-খুদরি (রা.) ও আবু হুরাইরা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ ﷺ বলেছেন, কোনো মুসলিমের ক্লান্তি, রোগ, দুঃখ, কষ্ট বা আঘাত হলে, এমনকি কাঁটা বিঁধলেও, আল্লাহ এর মাধ্যমে তার কিছু গুনাহ মাফ করেন।

সূত্র: সহিহ আল-বুখারি, হাদিস ৫৬৪১-৫৬৪২।

এই হাদিস কষ্টকে ছোট করে না। বরং কষ্টের মধ্যেও মুমিনের জন্য সওয়াব ও কাফফারার আশা দেয়।

৮. কখন চিকিৎসকের কাছে আবার যেতে হবে?

আগে ডাক্তার দেখিয়েছেন বলে নতুন বা পরিবর্তিত উপসর্গকে অবহেলা করবেন না।

বিশেষ করে আবার মূল্যায়ন দরকার হতে পারে যদি:

  • ব্যথার ধরন হঠাৎ বদলে যায়
  • ব্যথা দ্রুত বাড়তে থাকে
  • জ্বর, ওজন কমা বা অস্বাভাবিক দুর্বলতা যোগ হয়
  • শরীরের কোনো অংশে নতুন দুর্বলতা বা অবশভাব হয়
  • প্রস্রাব-পায়খানার নিয়ন্ত্রণে নতুন সমস্যা হয়
  • বারবার অজ্ঞান হওয়া বা খিঁচুনি হয়
  • নতুন বা তীব্র বুকব্যথা বা গুরুতর শ্বাসকষ্ট হয়
  • কোনো আঘাতের পর তীব্র ব্যথা শুরু হয়
  • দৈনন্দিন কাজ, ঘুম বা চলাফেরা উল্লেখযোগ্যভাবে ব্যাহত হয়

এগুলো হলে “আগে তো সব রিপোর্ট ভালো ছিল” বলে অপেক্ষা করবেন না। দ্রুত চিকিৎসা মূল্যায়ন নিন।

৯. বারবার ডাক্তার বদলানো কি সবসময় উপকারী?

সবসময় নয়।

কারণ না পেলে হতাশ হয়ে একের পর এক ডাক্তার, পরীক্ষা, কবিরাজ, রাকি, ওষুধ এবং নতুন নতুন ব্যাখ্যার পেছনে ছুটতে পারেন। এতে খরচ বাড়ে, ভয় বাড়ে এবং চিকিৎসার ধারাবাহিকতা নষ্ট হয়।

ভালো পদ্ধতি হতে পারে:

  • একজন দায়িত্বশীল চিকিৎসকের সঙ্গে ধারাবাহিকভাবে যোগাযোগ রেখে চিকিৎসা চালানো
  • আগের রিপোর্ট ও ওষুধের তালিকা সঙ্গে রাখা
  • কোন উপসর্গ কখন শুরু হয় লিখে রাখা
  • প্রয়োজনে চিকিৎসকের পরামর্শে বিশেষজ্ঞের কাছে যাওয়া
  • প্রয়োজন হলে দ্বিতীয় মতামত নেওয়া

দ্বিতীয় মতামত নেওয়া ঠিক আছে। কিন্তু “কেউ জিন বলবে কি না” এই উদ্দেশ্যে বারবার জায়গা বদলানো নিরাপদ নয়।

১০. শারীরিক ব্যথায় মানসিক চাপের ভূমিকা থাকলে কি ব্যথা কল্পিত?

না।

মানসিক চাপ, ভয়, দীর্ঘ উদ্বেগ এবং ঘুমের ঘাটতি শরীরের ব্যথার অভিজ্ঞতাকে বাড়াতে পারে। এর অর্থ এই নয় যে ব্যথা ভুয়া।

দীর্ঘস্থায়ী ব্যথা অনেক ক্ষেত্রে শরীর, স্নায়ুতন্ত্র, ঘুম, আবেগ, কাজকর্ম এবং সামাজিক জীবনের পারস্পরিক সম্পর্কের মধ্যে টিকে থাকতে পারে। WHO-এর দীর্ঘস্থায়ী ব্যথা বিষয়ক নির্দেশনাতেও শারীরিক, মানসিক ও সামাজিক বিষয়গুলো একসঙ্গে বিবেচনার কথা বলা হয়েছে।

এ কারণে কোনো চিকিৎসক যদি ঘুম, মানসিক চাপ, উদ্বেগ বা বিষণ্নতার বিষয়ে প্রশ্ন করেন, তাহলে ধরে নেবেন না যে তিনি বলছেন “সব আপনার মাথার ভেতর”। অনেক সময় এগুলো চিকিৎসার গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

১১. দীর্ঘ ব্যথার মানসিক প্রভাব ও ব্যথা-ভয় চক্র

দীর্ঘদিন ব্যথা থাকলে শুধু শরীর নয়, মন ও দৈনন্দিন জীবনও ক্লান্ত হতে পারে। ঘুম নষ্ট হওয়া, কাজ কমে যাওয়া, মানুষের সঙ্গে মেলামেশা কমে যাওয়া, ভবিষ্যৎ নিয়ে ভয়, বিরক্তি বা হতাশা তৈরি হতে পারে।

কখনো একটি চক্র তৈরি হয়:

ব্যথা → ভয় → শরীর টানটান হয়ে থাকা বা স্বাভাবিক কাজ এড়িয়ে চলা → ঘুম ও চলাফেরা কমে যাওয়া → ব্যথা আরও তীব্র মনে হওয়া → আরও ভয়।

এটি বলার উদ্দেশ্য ব্যথাকে “মনের বানানো” বলা নয়। দীর্ঘস্থায়ী ব্যথার অভিজ্ঞতায় শারীরিক, মানসিক ও সামাজিক বিষয় একে অন্যকে প্রভাবিত করতে পারে। WHO-এর দীর্ঘস্থায়ী প্রাথমিক কোমরব্যথা বিষয়ক নির্দেশনাতেও ব্যক্তি-কেন্দ্রিক, সমন্বিত চিকিৎসা এবং শারীরিক, মানসিক ও সামাজিক বিষয় একসঙ্গে বিবেচনার কথা বলা হয়েছে।

যদি দীর্ঘ ব্যথার সঙ্গে তীব্র হতাশা, উদ্বেগ, ঘুমের বড় ব্যাঘাত, সামাজিকভাবে গুটিয়ে যাওয়া, স্বাভাবিক কাজ প্রায় বন্ধ হয়ে যাওয়া বা নিজের ক্ষতির চিন্তা যুক্ত হয়, তাহলে চিকিৎসকের পাশাপাশি মানসিক-স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞের সাহায্য নেওয়া উচিত।

১২. কোন ভুলগুলো করবেন না

  • “কারণ পাওয়া যায়নি” মানেই জিন বা জাদু বলবেন না।
  • চিকিৎসকের ওষুধ নিজের সিদ্ধান্তে হঠাৎ বন্ধ করবেন না।
  • কেবল রুকইয়াহর প্রতিক্রিয়ার ভিত্তিতে রোগের নাম দেবেন না।
  • দীর্ঘ ব্যথায় ভয় বাড়ায় এমন লক্ষণ-তালিকা বারবার পড়বেন না।
  • একসঙ্গে অনেক ধরনের চিকিৎসা, হারবাল পণ্য বা অজানা পদার্থ ব্যবহার করবেন না।
  • “রুকইয়াহ করলে ডাক্তার দরকার নেই” বা “ডাক্তার দেখালে রুকইয়াহ দরকার নেই” এই দুই চরম অবস্থানেই যাবেন না।

১৩. নিজের জন্য কী করতে পারেন?

১. উপসর্গের একটি সহজ নোট রাখুন: কোথায় ব্যথা, কখন বাড়ে, কখন কমে, ঘুম কেমন, কী ওষুধ চলছে।

২. চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী পরীক্ষা ও চিকিৎসা চালিয়ে যান।

৩. নিয়মিত সালাত, দোয়া, যিকর ও কুরআনের সঙ্গে সম্পর্ক রাখুন।

৪. ব্যথার জায়গায় সহিহ মুসলিম ২২০২-এর দোয়া পড়তে পারেন।

৫. পর্যাপ্ত ঘুম, সহনীয় শারীরিক নড়াচড়া এবং চিকিৎসকের উপযোগী পরামর্শ অনুসরণ করুন।

৬. ব্যথা দীর্ঘ হলে শুধু “ব্যথা পুরো শূন্য হয়েছে কি না” নয়, বরং ঘুম, কাজ, চলাফেরা ও দৈনন্দিন সক্ষমতা উন্নত হচ্ছে কি না সেটিও লক্ষ্য করুন।

৭. নতুন বিপজ্জনক লক্ষণ এলে দ্রুত চিকিৎসা নিন।

১৪. পরিবার কীভাবে সাহায্য করবে?

দীর্ঘস্থায়ী ব্যথায় ভোগা মানুষকে দুইভাবে কষ্ট দেওয়া হয়।

এক দল বলে:

“রিপোর্টে কিছু নেই, তোমার কিছু হয়নি।”

আরেক দল বলে:

“ডাক্তার কিছু পায়নি, নিশ্চয়ই জিন।”

দুইটিই ক্ষতিকর।

বরং বলুন:

“তোমার কষ্ট আমরা গুরুত্ব দিচ্ছি। কারণ বোঝার চেষ্টা চলুক। চিকিৎসা ও দোয়া, দুইটাই চালিয়ে যাই।”

পরিবার চিকিৎসার ধারাবাহিকতা, ঘুম, খাবার, প্রয়োজনীয় বিশ্রাম এবং মানসিক সমর্থনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

১৫. ছয়টি ভারসাম্য

১. শিফা আল্লাহর কাছ থেকে, কিন্তু চিকিৎসার উপায় গ্রহণ করা বৈধ ও প্রয়োজনীয়।

২. দীর্ঘস্থায়ী ব্যথা বাস্তব হতে পারে, যদিও একবারে কারণ ধরা না পড়ে।

৩. “টেস্ট নরমাল” মানে কষ্ট মিথ্যা নয়, আবার “জিন নিশ্চিত”ও নয়।

৪. শারীরিক ব্যথার জন্য প্রমাণিত রুকইয়াহ ও দোয়া করা যায়।

৫. রুকইয়াহর সময় প্রতিক্রিয়া দেখা গেলেও তা একা অদৃশ্য কারণের প্রমাণ নয়।

৬. চিকিৎসা, দোয়া, সবর ও তাওয়াক্কুল একসঙ্গে চলতে পারে।

মনে রাখুন

  • ব্যথাকে অস্বীকার করবেন না।
  • কারণ সম্পর্কে প্রমাণ ছাড়া সিদ্ধান্ত দেবেন না।
  • চিকিৎসা প্রয়োজন হলে চিকিৎসা চালিয়ে যান।
  • নিজের জন্য শরিয়তসম্মত রুকইয়াহ করতে পারেন।
  • নতুন বা গুরুতর লক্ষণ হলে দ্রুত চিকিৎসা নিন।
  • শিফা একমাত্র আল্লাহর পক্ষ থেকেই আসে।

একটি বাক্য মনে রাখুন:

“কারণ এখনো ধরা পড়েনি” এবং “এর কারণ জিন বা জাদু”, এই দুই বাক্য এক কথা নয়।

পরের অধ্যায়ে

প্রাপ্তবয়স্কদের ক্ষেত্রে যেমন ভয় ও ভুল ব্যাখ্যা সমস্যা তৈরি করতে পারে, শিশুদের ক্ষেত্রে ঝুঁকি আরও বেশি। শিশুর জ্বর, কান্না, ঘুমের সমস্যা, আচরণ পরিবর্তন বা খিঁচুনিকে দ্রুত বদনজর বা জিন বললে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেরি হতে পারে।

পরের অধ্যায়ে আমরা আলোচনা করব:

অধ্যায় ১২: শিশু ও পরিবারের ক্ষেত্রে রুকইয়াহ, সুরক্ষা ও সতর্কতা

শিশু ও পরিবারের ক্ষেত্রে রুকইয়াহ, সুরক্ষা ও সতর্কতা

এখন কী করবেন?

ব্যথার স্থান, শুরু, পরিবর্তন এবং চলমান চিকিৎসা লিখুন। কারণ অস্পষ্ট থাকলেও কষ্ট বাস্তব, তাই প্রয়োজনীয় চিকিৎসা চালিয়ে যান। চাইলে নিজের জন্য প্রমাণিত দোয়া পড়ুন।

তথ্যসূত্র

১. আল-কুরআন, সূরা আশ-শু‘আরা, ২৬:৮০।

২. সুনান আবু দাউদ, হাদিস ৩৮৫৫। আল-আলবানি: সহিহ।

৩. সহিহ মুসলিম, হাদিস ২২০২।

৪. সহিহ আল-বুখারি, হাদিস ৫৬৪১-৫৬৪২।

৫. World Health Organization, ICD-11 chronic pain classification।

৬. World Health Organization, WHO guideline for non-surgical management of chronic primary low back pain in adults in primary and community care settings, 2023।

পর্যালোচনা করেছেন: Emad Uddin, ১৮ অক্টোবর, ২০২৬

নিজের অবস্থা নিয়ে কথা বলতে চান?

রুকইয়াহ সাপোর্ট পাতায় পরামর্শের সময় বেছে নিতে পারেন।

পরামর্শ বুক করুন
বইয়ের সূচিতে ফিরুন